Logo Logo

নিজের কষ্ট ভুলতে ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল তাজুল ইসলাম


Splash Image

বুম হাতে মোবাইল ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভিডিও তৈরি করছেন ভাইরাল হওয়া তাজুল ইসলাম।

হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গি আর গ্রামের সহজ-সরল ভাষায় এলাকার সমস্যা তুলে ধরে ‘লাইভ’ আদলে ভিডিও তৈরি করেন তাইজুল ইসলাম তাজু। পরে সেসব ভিডিও নিজের ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘জিলাপির সরকারি দাম’ নিয়ে সম্প্রতি তার তৈরি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফলে হু হু করে বাড়তে শুরু করে তার ফলোয়ার সংখ্যা।


বিজ্ঞাপন


ভাইরাল হওয়া এই যুবকের ভাষ্য, মনের কষ্ট ভুলে থাকতে দেড় বছর আগে ভিডিও বানাতে শুরু করেন তিনি। পরে জিলাপির ভিডিওতে ভাইরাল হন। পেইজ মনিটেশন না থাকায় ভিডিও থেকে আয় করতে না পারার অক্ষেপের কথা জানান তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, তাজু সংবাদিক নন। তিনি কখনো নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে দাবিও করেননি। এলাকার সমস্যার কথা সবার কাছে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের মতো করে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন এই যুবক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সরকার পাড়া চর গ্রামের বাসিন্দা তাজু। সিরাজ-তাহেরা দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় তিনি। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন এই যুবক।

ঈদে বাড়িতে এসে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে হঠাৎ করেই ‘জিলাপির সরকারি দাম’ নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর থেকে গ্রামের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একের পর এক ভিডিও তৈরি করতে থাকেন তিনি। তার সরল উপস্থাপনা ও আবেগঘন বক্তব্য মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। স্থানীয়রাও এতে খুশি।

জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও নিজের প্রচেষ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়গা করে নেওয়া তাজু এখন মানুষের ভালোবাসাকেই শক্তি হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভাবের সংসারে টিকতে পারেনি তাজুর দাম্পত্য জীবন। অসুস্থ বাবা-মা ও দুই ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ জোগাতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। মাত্র ৮ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও তৈরি করে নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরতেন তিনি।

স্থানীয় আমিনুল বলেন, ‍“তাজু আমাদের এলাকার গর্ব। ওর সরলতা আর প্রতিভাকে সম্মান করা উচিত। কেউ যেন তাকে নিয়ে ট্রোল না করে। সবাই পাশে দাঁড়ালে সে উপক্রিত হবে। খুব সহজ ভাষায় আমাদের এলাকার কথা বলে। তাই মানুষ পছন্দ করে, ভাইরালও হয়েছে।”

তাইজুল ইসলাম তাজু বলেন, “মানুষ ভালোবাসা দিছে, ভিডিও ভাইরাল হইছে। কিন্তু আমার তো এখনো কষ্টই কমে নাই। পেইজে মনিটাইজেশন নাই, আয়ও নাই। সংসার চালানো কষ্ট হয়। চিন্তা করছি, আবারো ঢাকা গিয়ে কাজ করব, কাজ না করলে তো আর ভাত জুটবে না পরিবারে।”

তিনি জানান, মনের কষ্ট ভুলে থাকতে দেড় বছর আগে ভিডিও বানাতে শুরু করেন তিনি। পরে জিলাপির ভিডিওতে ভাইরাল হন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, “নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তাজুর পরিবার।”

তিনি জানান, তাজু সংবাদিক নন। তিনি কখনো সাংবাদিক হওয়ার পরিচয়ও দেয়নি। শুধুমাত্র এলাকার সমস্যা তুলে ধরতে এবং নিজের ফলোয়ার বাড়াতে সংবাদিকদের মতো করে ভিডিও বানান তিনি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...