বিজ্ঞাপন
নিহত মিলন ওই এলাকার তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিলনের সঙ্গে তার স্ত্রী রোজিনা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার এই বিরোধ মীমাংসার কথা ছিল। এদিন দুপুরে পাশের একটি বাড়িতে দাওয়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে মিলন আদাখোলা ঈদগাহ মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মিলনের শ্বশুর আউয়াল এবং শ্যালক মাসুম, রহিম ও রুবেল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিলনকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা ও পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দায়ী করেছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে মিলনের স্ত্রী রোজিনা দাবি করেছেন, তার স্বামীর সঙ্গে অনেকের শত্রুতা ছিল এবং তার পরিবারের কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. খালিদ হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মিলনের মৃত্যু হয়েছিল। তার শরীরে ১০-১২টি ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, "কে বা কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...