বিজ্ঞাপন
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় নির্মিত একটি ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে মেদার বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে দত্তখিলা খালে নামতে পারছিল না। এতে একদিকে বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকরা আশঙ্কা করছিলেন, পানি ঢুকে পড়লে মেদার বিলে চাষ করা ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে তারা ফসল রক্ষায় ওই বাঁধ নির্মাণ করেন।
অন্যদিকে, বাঁধ দেওয়ার ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে পোগলা ইউনিয়নের কান্দুলিয়া বিলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ নিয়ে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকার ফসল রক্ষা বাঁধ কাটতে গেলে বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষে ইসরাফিল (২৬), হেলাল শেখ (৬৫), মো. ইলিয়াস (৩৫), মুহাম্মদ (৪৫), মো. আনিস (২২), রুবেল (৩০), জুয়েল (২৫), রব মিয়া (৪২), আজাহারুল ইসলাম (২৬), মাসুদ (৪০), জামাল (৪০), আ. কাইয়ুম (৩৫), হাক্কুল (৩২) ও তফিকুল ইসলাম (২৫)সহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষের সময় পোগলা ইউনিয়নের কিছু লোক দত্তখিলা-নাগেরগাতী ফসল রক্ষা বাঁধের একটি অংশ কেটে দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের এলাকার মেদা বিলের প্রায় ৯০০ একর ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
পরে ভুক্তভোগী কৃষকরা একত্রিত হয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য আংশিক বাঁধ কাটেন। এরপর বড়খাপন ইউনিয়নের লোকজন মাইকিং করে দলবদ্ধভাবে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হন।”
তবে এ বিষয়ে বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে।”
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুই ইউনিয়নের কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পানি নিষ্কাশন ও ফসল রক্ষায় একটি সমন্বিত ও টেকসই সমাধান বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...