Logo Logo

টুঙ্গিপাড়ায় পানি শোধন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, ১৪ মাসে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


Splash Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ বিল সরকারি ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে সরাসরি নগদে গ্রহণ করার মাধ্যমে গত ১৪ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকার গরমিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে এই প্ল্যান্টটি নির্মাণ করে। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পানি সরবরাহ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এবং গ্রাহকদের বিল ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা।

তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯০০ গ্রাহক থাকলেও মাত্র ৮০ থেকে ১০০ জন ব্যাংকে বিল জমা দিচ্ছেন। বাকি প্রায় ৮০০ গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সরাসরি নগদে টাকা নেওয়া হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ব্যাংকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও জমা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ টাকা। বাকি ২৪ লাখ টাকা টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাটগাতী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ রঞ্জু খান জানান, প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। কতজন গ্রাহক সংযোগ পেয়েছেন তার সঠিক কোনো হিসাব নেই এবং গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে না পাঠিয়ে সরাসরি হাতে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পানি সঠিকভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে না এবং প্রায়ই ঘোলাটে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রাহক মুরছালিন শেখ ও আলেয়া বেগম জানান, আগে প্রতিদিন পানি পাওয়া গেলেও এখন একদিন পর পর পানি দেওয়া হচ্ছে। পানি ছাড়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, একদিন পর পর পানি সরবরাহ করে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করা হচ্ছে এবং সেই অর্থও সংশ্লিষ্ট চক্রটি ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস বলেন, চুক্তি অনুযায়ী দুই বছর প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার দাবি করেন, সব গ্রাহক বিল পরিশোধ না করায় ব্যাংকে টাকা কম জমা পড়েছে। তবে ২৪ লাখ টাকার বিশাল অংকের গরমিলের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

প্ল্যান্ট উদ্বোধনের পর থেকেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই লুটপাটে জড়িত থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...