বিজ্ঞাপন
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর রমনা পার্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রমনা পার্ক ও এর আশপাশের এলাকায় মুখোশ, ব্যাগ, ধারালো অস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ফানুস, আতশবাজি এবং শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে এমন বাঁশির ব্যবহারও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি জানান, নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ডিএমপি ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পুরো ঢাকা মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিমের মাধ্যমে আগাম তল্লাশি (সুইপিং) পরিচালনা করা হবে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হবে। প্রতিটি গেটে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের তল্লাশি করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিসিটিভি, ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও বিভিন্ন ভবনের ছাদে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হবে।
ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে বিশেষ টিম কাজ করবে। হকারদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেও থাকবে পৃথক নজরদারি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে। পুরো শোভাযাত্রার রুট কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সকল অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কের গেটগুলো শুধুমাত্র বের হওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে এবং এরপর নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট ও নীলক্ষেতসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে। যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম এবং নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
বৈশাখকে ঘিরে জঙ্গি হামলার কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো হুমকি নেই। তারপরও আমাদের জোর প্রস্তুতি রয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম একটি মহড়া পরিচালনা করে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...