Logo Logo

কোটালীপাড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বেড়িবাধেঁর শতাধিক গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ


Splash Image

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে নির্বিচারে শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পিঞ্জুরী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইদ শিকদারের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন


সোনাখালী-দেওপুড়া বেড়িবাঁধের প্রায় ৫০ শতাংশ জমি নিজের দাবি করে তিনি এই গাছগুলো কেটে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে পিঞ্জুরী ইউনিয়নের দেওপুরা গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে গাছ কাটার এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিঞ্জুরীসহ পার্শ্ববর্তী চারটি ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করেছিল। বাঁধকে টেকসই করতে এর ঢালে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়।

স্থানীয় কৃষক রমজান আলী (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই বাঁধের কারণে আমাদের এলাকায় বন্যার প্রকোপ কমেছে এবং ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান নিজের জমি দাবি করে গাছগুলো কেটে ফেলায় বাঁধের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী সুজন ফকির জানান, তিনি আবু সাইদ শিকদারের কাছ থেকে ১২৫টি গাছ কিনেছেন। গত দুই দিন ধরে তিনি গাছগুলো কেটে বাঁধের ওপর স্তূপ করে রেখেছেন এবং শিগগিরই সেগুলো সরিয়ে নেবেন।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ শিকদার বলেন, “আমার মালিকানাধীন জায়গার ওপর দিয়েই এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধের জন্য আমার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি নেওয়া হলেও আমি এখনো ক্ষতিপূরণের টাকা পাইনি। গাছগুলো আমারই লাগানো ছিল, তাই আমি সেগুলো বিক্রি করেছি।”

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই দাবি নাকচ করে আইনগত ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে। গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিস হায়দার খান বলেন, “রোববার দুপুরে বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠিয়ে গাছ কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যারা এই সরকারি বাঁধের গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...