বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মোল্লাহাট উপজেলার পাশের গোপালগঞ্জ সদরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সংকটের কারণে পাম্পগুলোর সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও মোল্লারহাটের এই পাম্পটিতে চিত্র ভিন্ন। এখানে নিয়মিত সেবা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি ও দৈনন্দিন কাজে এই পাম্পের ওপর তাদের নির্ভরতা অপরিসীম। বিশেষ করে বর্তমান মৌসুমে ফসলের মাঠে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এই ফিলিং স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রোহিমা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম মিল্টন জানান, সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ নিয়েই তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে এখান থেকে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে কৃষককেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সুষ্ঠুভাবে কৃষকদের মাঝে ডিজেল বিতরণ করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহও অব্যাহত রয়েছে।" চলমান এই জাতীয় সংকটের মধ্যেও কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারাটাকে তারা নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করছেন।
এদিকে, তেল নিতে আসা গ্রাহকরাও পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পাম্পের সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক বিতরণে সন্তোষ প্রকাশ করে তেল সংগ্রহ করতে আসা এক গ্রাহক জানান, "বৈশ্বিক এই সংকটের মুহূর্তে আমাদের সকলকেই সাশ্রয়ী হতে হবে। অযথা জ্বালানি তেলের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সকলকে আরও সচেতন হতে হবে।"
বর্তমান এই সংকটময় সময়ে রোহিমা ফিলিং স্টেশনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর জোর দাবি, কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের চাকা সচল রাখতে এ ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। মোল্লারহাটের এই ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রম কেবল স্থানীয়দের জন্যই সহায়তামূলক নয়, বরং দেশের অন্যান্য এলাকার সংকট মোকাবেলায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...