বিজ্ঞাপন
জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব ভবন না থাকায় বর্তমানে পুরাতন জজ কোর্টের একটি পরিত্যক্ত ভবনে অস্থায়ীভাবে জেলা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কাজ চলছে। জরাজীর্ণ এই ভবনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কর্মকর্তা- কর্মচারী ও নকলনবিশদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। এমনকি অনেক দলিল লেখক ও তল্লাশিকারককে বারান্দায় বসে কাজ করতে দেখা গেছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে অফিসের রেকর্ড রুম। পর্যাপ্ত র্যাক ও জায়গার অভাবে গুরুত্বপূর্ণ বালাম বই ও নথিপত্র যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে জরাজীর্ণ ভবনের জানালা ও ভেন্টিলেটর দিয়ে পানি ঢুকে এসব মূল্যবান নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরী উপজেলায় দীর্ঘ এক বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে আরও দুইজন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে একজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে একাধিক উপজেলা সামলাতে হচ্ছে, যা সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নেত্রকোনা সদরসহ কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা ও পূর্বধলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পিয়নের পদগুলো দীর্ঘকাল ধরে শূন্য। রেকর্ড রুমেও কোনো পিয়ন নেই। ফলে শত শত সেবাপ্রার্থী প্রতিদিন দলিল রেজিস্ট্রেশন ও নকল সংগ্রহের জন্য এসে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রোমানা আক্তার লোপা জানান, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আসলেও অফিসে কোনো পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। এতে বিশেষ করে নারী সেবাগ্রহীতারা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
দলিল লেখক সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক বাচ্ছু বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে অফিসের সামনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অস্বাস্থ্যকর ও জরাজীর্ণ পরিবেশে কাজ করা এখন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল খালেক বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা শহরের বনুয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অফিসের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আধুনিক নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...