বিজ্ঞাপন
পহেলা বৈশাখের তপ্ত দুপুরে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের ঢেউ আছড়ে পড়ল গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা সদরের রেল স্টেশনে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুকসুদপুরবাসীর জন্য নতুন বছরের শ্রেষ্ঠ উপহার নিয়ে এলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম। ঢাকা থেকে সাধারণ যাত্রীদের সাথে স্ত্রীকে নিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনে চড়ে মুকসুদপুর স্টেশনে এসে নামেন তিনি। তার একান্ত প্রচেষ্টায় এখন থেকে মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে ঢাকা-বেনাপোল এবং ঢাকা-খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন। পহেলা বৈশাখের দিন এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মুকসুদপুর ও আশপাশের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত।
স্টেশন চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম। এ সময় তিনি মুকসুদপুরকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান।
মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মাহাতাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের সহধর্মিণী, লেখক ও দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সাবরিনা বিনতে আহমেদ শুভ্রা, মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির, মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম খান, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রাজু প্রমূখ।
পরে উৎসবের আমেজে ফিতা কাটার মাধ্যমে এই যাত্রার শুভ সূচনা করেন অতিথিরা। এখন থেকে মুকসুদপুর থেকেই দ্রুত গতির রেল সেবা পাবেন এই জনপদের মানুষ।
সেলিমুজ্জামান সেলিম এমপি আরো বলেন, মুকসুদপুরের সাধারন মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ২ মাসের মধ্যে রক্ষা করতে পেরেছি। আগামীতেও গোপালগঞ্জের সাধারন মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।আমি কাজে বিশ্বাসী কোন কথায় বিশ্বাসী না। যার প্রমাণ আজকের ট্রেনের যাত্রাবিরতি। নির্বাচনের পূর্বে আমি আপনাদের যে সকল কথা দিয়েছিলাম, আগামী ৫ বছরে অক্ষরে অক্ষরে আমি তা পালন করবো ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সহযোগিতা পেলে, মুকসুদপুরকে একটি বসবাসযোগ্য, সম্প্রীতির উপজেলা এবং একটি শান্তিপূর্ণ উপজেলা করতে যা কিছু করার দরকার, আমি তা করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, আমার নেতা তারেক রহমানও কাজে বিশ্বাসী। তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথা দিয়েছেন, তার প্রতিটি কথা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসক মো: আরিফ-উজ-জামান বলেন, মুকসুদপুরে আন্তনগর ট্রেন যাত্রা বিরতি করছে, এটি মুকসুদপুরবাসীর জন্য আনন্দের । ঢাকা- গোপালগঞ্জের ট্রেনও চালু হতে যাচ্ছে। এতে গোপালগঞ্জে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উম্মোচিত হবে।
মুকসুদপুর উপজেলার রিশাতলা গ্রামের সাকিব হোসেন হৃদয় বলেন, নববর্ষের দিনে এই নতুন প্রাপ্তি আমাদের মাঝে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুধু যাতায়াত নয়, এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে । সংসদ সেলিমুজ্জামান সেলিম নির্বাচিত হতে পারলে, ৩ মাসের মধ্যে মুকসুদপুরে ট্রেনের যাত্রাবিরতির প্রুতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। ২ মাসের মধ্যে তিনি সেটি বাস্তবায়ন করেছেন এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।
মুকসুদপুরের ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন বলেন, মুকসুদপুরের উপর দিয়ে ঢাকা-বেনাপোল এবং ঢাকা-খুলনা আন্তঃনগর ট্রেন অনেক আগেই যাতায়াত শুরু করে । কিন্তু মুকসুদপুর স্টেশনে এসব ট্রেন স্টপিস দিত না। ফলে আমরা কম খরচে, নিরাপদ ভ্রমনের সুযোগ পাচ্ছি। এতে আমাদের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। পণ্যবাহী ট্রেন চালু হলে এখানে শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে।
মুকসুদপুর উপজেলার কলিগ্রামের শিক্ষার্থী স্যামুয়েল ডি রোজারিও বলেন, আমি সহ আমাদের এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঢাকা পড়াশোনা করি । ট্রেন আমাদের যাতায়াতকে আরো সহজ সাশ্রয়ী করে দিল। এজন্য এমপিকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।#
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...