বিজ্ঞাপন
২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি গোপালগঞ্জ জেলা শহরে কার্যালয় স্থাপন করে ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১০টি জেলার ৫২টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল—প্রজনন মৌসুমে জেলেদের মাছ শিকার থেকে বিরত রাখা এবং তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। গত ৫ বছরে এই প্রকল্পের আওতায় ১৬ হাজার ৬৫০টি দরিদ্র জেলে পরিবারের মধ্যে গবাদিপশু ও যানবাহন বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪০৫টি পরিবারকে ২টি করে স্ত্রী ছাগল, ৭ হাজার ৯৪৫টি পরিবারকে ১টি করে বকনা বাছুর এবং ৩০০ পরিবারকে ১টি করে ভ্যান প্রদান করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জুরী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৎস্যজীবী রব হাওলাদার জানান, আগে অভাবের কারণে প্রজনন মৌসুমেও মাছ ধরতে হতো। কিন্তু দুই বছর আগে মৎস্য অফিস থেকে ২টি ছাগল পাওয়ার পর তাঁর জীবন বদলে গেছে। এখন তাঁর ১৩টি ছাগল রয়েছে। মাছের পেটে ডিম থাকার সময় তিনি মাছ ধরা বন্ধ রাখেন এবং ছাগল বিক্রি করে সংসার চালান। তাঁর স্ত্রী জরিনা বেগমও এই ছাগল পালনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।
একই গ্রামের রেণু রানী দাস জানান, ৬ মাস আগে পাওয়া একটি বকনা বাছুর লালন-পালন করছেন তিনি। এটি বড় হয়ে বাচ্চা দিলে দুধ বিক্রির মাধ্যমে তাঁর পরিবারে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, পশ্চিম ধারাবাশাইল গ্রামের সঞ্জয় অধিকারী জানান, তাঁর বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় মাছ ধরতে পারেন না। ৩ বছর আগে পাওয়া ভ্যানটি চালিয়ে তিনি এখন ৬ জনের সংসার সামলাচ্ছেন, ফলে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার প্রয়োজন পড়ছে না।
স্থানীয় কলেজছাত্র অমিত দাস ও প্রকল্প কমিটির সদস্য তোতা মিয়া হাওলাদার জানান, জেলেদের এই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করায় গত ৫ বছরে এলাকার খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাপ্যতা অনেক বেড়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে জেলেরা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকছেন।
দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো: খালিদুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত মাছ আহরণ রোধ ও প্রজনন মৌসুমে জেলেদের বিরত রাখাই ছিল এ প্রকল্পের মূল চ্যালেঞ্জ। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করায় ১০টি জেলাতেই মাছের উৎপাদন বেড়েছে। চলতি বছরের জুনে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার যদি সারাদেশে এই ধরণের প্রকল্প গ্রহণ করে, তবে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। কোটালীপাড়া উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর মাধ্যমে এ ধরণের প্রকল্প অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...