বিজ্ঞাপন
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ডুমুরিয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে তারা দীর্ঘ সময় রাস্তার দুই পাশে অবস্থান করায় ডুমুরিয়া-টুঙ্গিপাড়া সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ এপ্রিল কুমিল্লায় কর্মস্থলে থাকাকালীন বুলেট বৈরাগীকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্বজন ও সহপাঠীদের দাবি, মেধাবী ও সৎ এই কর্মকর্তার মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
বক্তব্য প্রদানকালে স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, "বুলেট শুধু আমাদের এলাকার গর্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত সৎ সরকারি কর্মকর্তা। তাকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ। আমরা চাই ঘটনার পেছনের কুশীলবদের দ্রুত খুঁজে বের করা হোক।"
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মেধাবী এই কর্মকর্তার অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও পুরো ডুমুরিয়া ইউনিয়ন জুড়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা। টুঙ্গিপাড়াবাসীর একমাত্র দাবি—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে। কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এই প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...