বিজ্ঞাপন
নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই রায় ঘোষণা করবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী জানান, গত ১৫ এপ্রিল মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার ‘জাহান মঞ্জিল’ থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে গলা কেটে এবং হাত ও পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর ওই রাতেই অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রনি পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন এবং তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অদিতা গৃহশিক্ষক রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে রনি ঘরে প্রবেশ করে অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তিনি অদিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন এবং ঘটনাটি চুরির নাটক হিসেবে সাজাতে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে রাখেন।
পেশায় শিক্ষিকা অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি আমার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার চাই। খুনির এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যা দেখে আর কেউ যেন এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদানের দিন নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে নোয়াখালীসহ সারাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পালিত হয়েছিল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...