Logo Logo

আদালতের নির্দেশে খন্দকার মোশাররফের ১০৫ ব্যাংক হিসাব ও বন্ড জব্দ


Splash Image

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামে থাকা শতাধিক ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ড জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই ফ্রিজ ও জব্দের আদেশ প্রদান করেন।

আদেশে তাঁর ৮৭টি এফডিআর হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭ কোটি ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১ টাকা জমা রয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৬ হাজার ৩৭৬ টাকা ও ১৬ হাজার ৪১৯ মার্কিন ডলার এবং ১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৩টি ওয়েজ আর্নার্স বন্ড জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সাবিকুন নাহারের আবেদনের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় ৩৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদকের তথ্যমতে, তাঁর নিজের ও ছদ্মনামে পরিচালিত ১৫টি ব্যাংক হিসাবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৬ মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রায় ৭ কোটি ৭২ লাখ ১৮ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, এই সকল অভিযোগে গত বছরের ২ জুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বর্তমানে তদন্ত চলমান থাকায় সম্পদ সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় আদালতের কাছে হিসাব জব্দের আবেদন করা হলে আদালত মোট ১০৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বন্ডের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন এক সময় ফরিদপুরের রাজনীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

তবে ২০২০ সাল থেকে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবে ভাটা পড়তে শুরু করে। ওই বছরের ৭ জুন ফরিদপুরে আলোচিত পুলিশি অভিযানে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে তিনি সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ইতোমধ্যে দল থেকেও তাঁকে বিভিন্ন সময় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও সম্পদ জব্দের এই প্রক্রিয়া তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও সংকটের মুখে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...