বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জমির মূল্য পরিশোধের পর বৈধভাবে দলিল রেজিস্ট্রি করতে গিয়েও সাধারণ মানুষকে অবৈধ পথে টাকা গুনতে হচ্ছে। সরকারি ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হলেও দলিল সম্পাদনকালে দলিল লেখকদের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মোহরার ফেরদৌসী বেগমের ১৮ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন। সাধারণত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আর্থিক লেনদেন ব্যাংক চালানের মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলেও প্রকাশ্যে নগদ টাকা লেনদেনের বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত মোহরার ফেরদৌসী বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে পে-অর্ডার ব্যতীত কেন নগদ টাকা নিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অফিসের কয়েকজন কর্মচারী ও দলিল লেখক মিলে সংবাদ প্রচার না করার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক নকল নবিশ জানান, এই দুর্নীতির জাল অনেক গভীরে। প্রতিটি দলিল থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ জেলা রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ভাগ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন দুর্নীতির আতুরঘরে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি দলিল থেকে ১% থেকে শুরু করে ৩% পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হয়। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ যুবায়েরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভিডিওর বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট মোহরারের সাথে কথা না বলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদার জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তবে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...