ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১২ মে) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, দেশটির কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ পুতিনের কাছে এই সফল উৎক্ষেপণের রিপোর্ট পেশ করছেন। পুতিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রটি সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, “এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।” তিনি আরো দাবি করেন, এর ধ্বংসক্ষমতা যেকোনো পশ্চিমা সমমানের অস্ত্রের চেয়ে চার গুণ বেশি।”
পুতিনের মতে, সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রটি উপ-কক্ষপথীয় উড্ডয়নে সক্ষম, যার পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটার (২১ হাজার ৭৫০ মাইল) ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি আরো দাবি করেন, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।
পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ‘সাটান-টু’ নামে পরিচিত এই সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত সোভিয়েত আমলের প্রায় ৪০টি ‘ভয়েভোডা’ ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলাভিষিক্ত হবে। পুতিন জানান, সারমাট ভয়েভোডার মতোই শক্তিশালী কিন্তু এর লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা অনেক বেশি নিখুঁত।
আল-জাজিরার তথ্যমতে, সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলে আসা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ওয়ারহেড সীমিত রাখার সর্বশেষ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের শীর্ষ দুই পারমাণবিক শক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা ছাড়াই অবস্থান করছে।
যদিও চুক্তি শেষ হওয়ার পর মস্কো ও ওয়াশিংটন উচ্চ-পর্যায়ের সামরিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে, তবে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির লক্ষণ নেই। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো নতুন চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডার রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট হলেও, তা প্রসারিত হচ্ছে। বেইজিং প্রকাশ্যে এই চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০০০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুতিন সোভিয়েত আমলের পারমাণবিক ত্রয়ীর আধুনিকায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে শত শত নতুন স্থলভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, নতুন পারমাণবিক সাবমেরিন ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বোমারু বিমানের আধুনিকায়ন।
২০১৮ সালে পুতিন প্রথম সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশ কিছু নতুন অস্ত্র উন্মোচন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘আভনগার্ড’ হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল, যা শব্দের চেয়ে ২৭ গুণ দ্রুত ছুটতে পারে। ইতোমধ্যে এই অস্ত্র সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন ওরেশনিক মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে ও ইউক্রেন যুদ্ধে এর সাধারণ সংস্করণ দুবার ব্যবহার করেছে। ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
পুতিন আরো জানান, পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত ‘পসেইডন’ আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও ক্ষুদ্র পারমাণবিক চুল্লি দ্বারা চালিত ‘বুরভেস্টনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
পুতিন এই নতুন অস্ত্রগুলোকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাশিয়ার সামরিক পরিকল্পনাকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওয়াশিংটনকে প্রথম আঘাত হানতে প্রলুব্ধ করতে পারে, যা মস্কোর বেশিরভাগ পারমাণবিক অস্ত্রাগার অকার্যকর করে দেবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধ হিসেবে ছোড়া অল্প সংখ্যক অবশিষ্ট রুশ ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।
পুতিনের মতে, “নতুন বাস্তবতার মুখে ও ক্ষমতার কৌশলগত ভারসাম্য ও সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনে আমরা আমাদের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছি।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...