Logo Logo

জ্বালানি সংকটে অচল জেনারেটর, অন্ধকারে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


Splash Image

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেই পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে প্রচণ্ড গরমে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদেরও রোগীদের সেবা দিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি জেনারেটর থাকলেও তা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের জন্য চাহিদার তুলনায় অনেক কম অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেনারেটর চালাতে পারে না। এ কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জেনারেটর বন্ধ থাকে। একই সংকটের কারণে রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। রোগীদের অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে একটি জেনারেটরও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

সাধারণ রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে বেড সংকটের কারণে অনেককে বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সেখানে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালু না হওয়ায় তীব্র গরমে রোগীদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন শেফালী খাতুন বলেন, “তীব্র তাপদাহে এমনিতেই জীবন অতিষ্ঠ। তার ওপর বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীরা হাঁসফাঁস করেন। এতে তারা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।”

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্বর্ণা রানী বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। মেয়েরা ওষুধ বা খাবার পানি আনতে টিউবওয়েলের দিকে যেতে ভয় পায়।”

রোগী সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, জেনারেটরও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি যদি চালানোই না যায়, তাহলে এসবের উপকারিতা কোথায়?”

হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভাষ্য, লোডশেডিংয়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে মোমবাতি ও টর্চলাইটের সহায়তায় জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, “তেল সংকটের কারণে জেনারেটর বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে ডাবল ফিডার লাইনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। লাইনটি চালু হলে বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করছি।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...