বিজ্ঞাপন
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে স্থানীয় বাইজিদ গ্রুপ ও জুয়েল গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে লিপ্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এই ঘটনায় আহতরা হলেন— জুয়েল (৪০), আসলাম (২৫), বাইজিদ (৩৫) ও আরিফ (২২)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চণ্ডীপুর বাজারকেন্দ্রিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাইজিদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ গাজীরহাট কেল্লার পাশের সরকারি খাস জলাশয়ে মাছ ধরতে যায়। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের মাছ ধরতে বাধা দেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই জলাশয়ে ঝাউল ও বাঁধ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে সবাই মিলে সেখান থেকে মাছ আহরণ করে থাকেন।
মাছ ধরার সময় স্থানীয়রা বাইজিদ ও তার লোকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা গ্রামবাসী মিলে এখানে মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আপনারা অন্য এলাকা থেকে এসে কেন এখানে মাছ ধরতে এসেছেন?” এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত বাইজিদ দাবি করেন, “আমাকে ভূমি অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে।” কে পাঠিয়েছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভূমি অফিসের পেশকার জাহিদ ভাই আমাকে পাঠিয়েছেন। এছাড়া মাছ ধরার পর সেই মাছ নিয়ে যাওয়ার জন্য ইউএনও অফিসের মামুন ভাই ও রাব্বি ভাইয়ের আসার কথা ছিল।”
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ভূমি অফিসের পেশকার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে মাছ ধরার কোনো অনুমতি দেইনি। শুধু বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলাম মাত্র।”
এই বিষয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফাইজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আমি মারামারি ও চিৎকার-চেঁচামেচির খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বাইজিদের কাছে জানতে চাইলে সে জানায় যে ভূমি অফিসের জাহিদ ভাই তাকে পাঠিয়েছেন। পরবর্তীতে আমি জাহিদ ভাইকে ফোন দিলে তিনি প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে আবার তা অস্বীকার করেন।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। আমি সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি এবং বলেছি যেন এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে। সবাইকে মিলেমিশে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ইউএনও অফিসের নাম জড়ানোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “কেউ হয়তো অবৈধ সুবিধা নিতে আমাদের নাম ব্যবহার করেছে। মাছ ধরার জন্য প্রশাসন থেকে কাউকে পাঠানো হয়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ঝামেলার কথা শুনেছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা করার জন্য বলা হয়েছে।”
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত আলী খান জানান, এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...