Logo Logo

জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের

টুঙ্গিপাড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গর্ভবতী নারীসহ আহত ১০


Splash Image

গোপালগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ছয় মাসের এক গর্ভবতী নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের ওস্তাবাড়িতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বদরুল ওস্তা ও মহিবুল্লাহ ওস্তা গ্রুপের মধ্যে হঠাৎ করেই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার পর স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে এলাকার লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

মহিবুল্লাহ ওস্তা গ্রুপের আহতরা হলেন— গর্ভবতী নারী আমেনা বেগম (২৫), রাজিয়া বেগম (৫৫), হুসাইন লস্কর (৩২), সাইদ হাসান (২২) ও ফাতেমা বেগম (৫০)। অন্যদিকে বদরুল ওস্তা গ্রুপের আহতরা হলেন— শারমিন আক্তার (২৫), রাশিদা বেগম (৪০), বাকপ্রতিবন্ধী ফজর ওস্তা (১৩) ও রূপবান বেগম (৫০)।

মহিবুল্লাহ ওস্তার চাচাতো ভাই হুসাইন লস্কর অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১ ফেব্রুয়ারি আমার চাচী নাহিদা বেগমকে হাতুড়ি পেটা করে মেরে ফেলে কাদের ওস্তা ও বদরুল ওস্তার লোকজন। সেই মামলায় বদরুল ওস্তা ২ নম্বর আসামি এবং আমরা সাক্ষী। দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে আমাদের দোকানের সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় নানা রকম হুমকি দিত বদরুল। শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বদরুলের মেয়ে অহেতুক বকাঝকা শুরু করলে তার প্রতিবাদ করায় বদরুল ওস্তা আমাদের বাড়িতে এসে আমার গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে লাথি মারে। তার চিৎকারে আমরা এগিয়ে এলে আমাদেরও মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

তবে অভিযুক্ত বদরুল ওস্তা উল্টো অভিযোগ করে বলেন, মহিবুল্লাহদের জমি নিয়ে বিরোধ মূলত কাদের ওস্তার সাথে। কিন্তু হত্যা মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামও জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আসার পর আমাকে নতুন করে ফাঁসানোর জন্য তারা এই নাটক সাজিয়েছে। মূলত আমার মেয়েকে তারাই প্রথমে মারধর করেছে। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি ওরা আমার স্ত্রীর চুল ধরে টেনে নিয়ে মারধর করছে। পরে আমাকে দেখে তারা চলে যায়। এই হামলায় আমার স্ত্রী ও মেয়েসহ ৫ জন আহত হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, এ ঘটনার পর দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...