Logo Logo

কর্ণফুলীতে হামলা-ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা, তদন্তে পিবিআই


Splash Image

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘটিত হামলা, মারধর, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


বিজ্ঞাপন


আদালত সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম জুলধার সুলতানের বাপের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একই এলাকার মোহাম্মদ আলী, মো. নবী, মো. ইসমাইল, সাবের আহমদ, খায়ের আহমদ ও মজিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা ও লোহার রড নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে বাদীপক্ষের বসতবাড়িতে হামলা চালান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর এবং ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, হামলার সময় ডলি আক্তার (মিলি) বাধা দিতে গেলে তার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার আঙুলে ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় মুন্নি আক্তারের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর জখম হন। পরিবারের দাবি, তার মাথায় ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মুন্নি আক্তারকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্বামীও হামলার শিকার হন। এছাড়া জামালকে মারধরের সময় তার ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনিও আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং পেটে ব্যথা অনুভব করেন। একই সঙ্গে পরিবারের দুই শিশুসন্তানও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকজন নারী শ্লীলতাহানির শিকার হন। ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। তবে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন আসামি হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করলে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই ঘটনায় অপর পক্ষেরও দুইজন আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বিষয়ে পৃথক কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...