Logo Logo

মুসলিম ফুটবলারদের জন্য ফিফার নতুন নিয়ম, ম্যাচসেরার পুরস্কারে থাকছে না অ্যালকোহলের লোগো


Splash Image

বিশ্বকাপের মাঠে ম্যাচসেরা (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) হওয়ার স্বীকৃতি একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত অর্জনের অন্যতম বড় মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে আলো ঝলমলে মঞ্চে ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবিই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। তবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই পরিচিত দৃশ্যেই সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।


বিজ্ঞাপন


মুসলিম ফুটবলারদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়ায় বিশেষ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো মুসলিম খেলোয়াড় ম্যাচসেরা হলে পুরস্কার গ্রহণের সময় মূল স্পন্সরের অ্যালকোহল (মদ) ব্র্যান্ডের লোগো দৃশ্যমান রাখা হচ্ছে না।

চলমান বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে ইতোমধ্যেই ফিফার এই নতুন নিয়মের বাস্তবায়ন দেখা গেছে। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া মুসলিম খেলোয়াড়দের পুরস্কার প্রদানের সময় মঞ্চের পেছনের স্পন্সর বোর্ড (ব্যাকড্রপ) থেকে অ্যালকোহল-সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডিং সম্পূর্ণ সরিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে অন্য ধর্মের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে অবশ্য আগের প্রচলিত নিয়মই বহাল রয়েছে। ফিফার এই সাহসী ও ইতিবাচক পদক্ষেপকে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক ফুটবলের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্বকাপ এখন শুধু ফুটবলের আসর নয়, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও পরিচয়ের মানুষের এক মিলনমেলা। সেই বাস্তবতায় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ক্রমশ সামনে আসছে। বিশ্ব ফুটবলে মুসলিম খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ফ্রান্স, মরক্কো, আলজেরিয়া, সেনেগাল, তিউনিসিয়া কিংবা বিভিন্ন ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশের জার্সিতে নিয়মিতই মাঠ মাতাচ্ছেন মুসলিম ফুটবলাররা। তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের চর্চা করেন।

ফিফার নতুন এই উদ্যোগ সেই বাস্তবতারই একটি বড় প্রতিফলন। মাঠের পারফরম্যান্সের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি যেন কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না করে, সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এমন সিদ্ধান্ত ফুটবলের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। আর সেটিই হয়তো দেখিয়ে দিচ্ছে—আধুনিক ফুটবল শুধু গোল, জয়-পরাজয় কিংবা ট্রফির গল্প নয়; এটি পারস্পরিক সম্মান, বৈচিত্র্য এবং সহাবস্থানেরও এক অনন্য প্রতীক।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...