বিজ্ঞাপন
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ করেই জামান খন্দকার অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমদিকে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বর্তমানে তিনি দুই পায়ে পর্যাপ্ত শক্তি পান না, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং কর্মক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে জীবনের অধিকাংশ সময় তাকে এখন ঘরের চার দেয়ালের মাঝেই কাটাতে হচ্ছে।
জামান খন্দকার জানান, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে চিকিৎসকরা এখনো তার রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারেননি। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি ইতিমধ্যে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে গেছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
জামানের বাবা মনরউদ্দিন খন্দকার বলেন, আমার ছেলে একসময় সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করত এবং মসজিদে ইমামতি করে সংসার চালাত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন তার চিকিৎসার খরচ চালানো আমাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
জামান খন্দকারের সংসারে ৭ বছর ও ১ বছর ৫ মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। বাবার অসুস্থতার কারণে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জামান খন্দকার একজন ধর্মভীরু ও সৎ মানুষ হিসেবে এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত। দীর্ঘদিন ইমামতি করে তিনি মানুষের মাঝে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আজ তিনি নিজেই কঠিন সময় পার করছেন। তার এই বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে জামান খন্দকারের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। সেই সাথে তার পরিবারের বর্তমান আর্থিক দুর্ভোগও কিছুটা লাঘব হবে। একসময় যিনি মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানিয়েছেন, আজ সেই মানুষটিই অসুস্থতা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন। সমাজের মানবিক ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা জাগতে পারে জামান খন্দকারের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...