বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা সজীব কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই গোপালগঞ্জ পুলিশ অফিস ও সদর থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। পুলিশের পোশাক পরা কাউকে দেখলেই স্যালুট দেওয়ার অভ্যাস ছিল তার।
গত ১৫ মে থেকে সজীব নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ২০ মে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরই তাকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিফ হায়দার নামে এক ব্লগারের প্রকাশিত একটি ভিডিও পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভার এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং নিজেকে ‘সজীব পুলিশ’ বলে পরিচয় দিচ্ছেন।
ভিডিওটি দেখার পর গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি দল রাজধানীতে গিয়ে মগবাজার, মালিবাগ, রমনা, পল্টন ও কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালায়। তবে তখনও তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পরে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও মতিঝিল থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে সজীবের বর্ণনা পাঠানো হয়। ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগেও বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভিডিও প্রকাশকারী ব্লগারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২৪ জুন বিকেলে সজীবের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জ সদর থানা সূত্রে জানা যায়, সজীবকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন।
সজীবের সন্ধান পেতে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও পেশাদার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, পুলিশের নিরলস অনুসন্ধান ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে সজীব।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...