Logo Logo

নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুস্থ নারীদের চাল বিতরণ করছেন চেয়ারম্যান, জানেন না কর্মকর্তারা


Splash Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ রয়েছে, ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবহিত না করেই দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া নির্ধারিত অনেক উপকারভোগী উপস্থিত না থাকলেও তাদের নামে বরাদ্দ চাল অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এ কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ছিলেন না সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে দেখা গেছে ভিন্নতা।

জানা গেছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিডব্লিউবি কর্মসূচির মাধ্যমে উপকারভোগী নারীদের প্রতি মাসে কার্ডপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।

সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাসের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬টি কার্ডের নামে বরাদ্দ চাল চারজন নারী একটি ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২টি কার্ডের চাল একজন ব্যক্তি ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীরা তাদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করবেন। চাল বিতরণের সময় সেখানে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিও দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস বলেন, “অনেক উপকারভোগী এসে সই দিয়ে চলে যান। পরে তাদের চাল দুই-একজনের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।” ট্যাগ অফিসারকে অবহিত না করার বিষয়ে তিনি বলেন, “ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি, তাই জানাতে পারিনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, “চেয়ারম্যান অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে মাস্টাররোলে ভুয়া স্বাক্ষর দেন। একজনের চাল অন্যজনের কাছে দিয়ে দেন। ফলে অনেক উপকারভোগী সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এসব চাল কোথায় যায়, তা চেয়ারম্যানই ভালো জানেন।”

অভিযোগের বিষয়ে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার হোসেন আলী বলেন, “চেয়ারম্যান চাল বিতরণের বিষয়ে আমাকে কোনো তথ্য দেননি। তাই আমি জেলা অফিসে কাজে এসেছি।”

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী জানান, “চলতি মাসসহ গত তিন মাসের চাল বিতরণের সময়ও আমাকে অবহিত করা হয়নি। এছাড়া একজনের নামে বরাদ্দ চাল অন্য কারও কাছে দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে যার নামে চাল বরাদ্দ রয়েছে, তাকে সরাসরি চাল প্রদানের জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো উপকারভোগী চাল না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...