বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও অবকাঠামো নির্মাণ করে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ইউএনওর কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— চরলক্ষ্যা বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ খইন্নাখালের সঙ্গে সংযুক্ত 'মামা-ভাগিনা খাল' ও ড্রেন দখলমুক্ত করে দ্রুত উদ্ধার, চরলক্ষ্যা হাসপাতাল সড়কের জরাজীর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কার, বাদামতল এলাকায় নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণ এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অবরুদ্ধ নালা দ্রুত পরিষ্কার করা।
পরিদর্শন শেষে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, কর্ণফুলী উপজেলা ছাত্রদলের সংগঠক মো. আরিফুল ইসলাম, চরলক্ষ্যা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তারা বেগম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, আব্দুন নুর, আবু বক্করসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা জানান, দুর্যোগের সময় মাঠপর্যায়ে এসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেওয়া এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় তারা কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে পানি চলাচলের পথ দখলমুক্ত করা, অবৈধ প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রতিও আহ্বান জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ পুনরুদ্ধার এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...