বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এর একদিন আগে, বুধবার (৮ জুলাই) মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
কারাগারে পাঠানো দুই ভাই জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-গোয়ালগাঁও গ্রামের মৃত আরজু মিয়ার ছেলে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি- এই মামলায় পূর্বে তদন্ত কার্যক্রমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার ফৌজদারি রিভিশন মামলা নং-৮৮/২০২০-এর রায়ে তদন্তের নানা অসঙ্গতি উল্লেখ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার অন্যতম আসামি হাফিজ কামরুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের বিষয়ে এনামুল হাসানের দুই ভাই ইয়াকুব ও ইসমাইল অবগত ছিলেন। এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা তদন্তের বড় ধরনের ঘাটতি হিসেবে আদালত উল্লেখ করেন।
দণ্ডবিধির প্রয়োজনীয় ধারা সংযোজনেও অবহেলা রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, মামলার অভিযোগের ধরন অনুযায়ী দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারার পাশাপাশি ১০৯ (অপরাধে প্ররোচনা বা সহায়তা) ধারা সংযুক্ত করার বিষয়টিও তদন্তকারী কর্মকর্তা বিবেচনায় নেননি।
এছাড়া, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার কোনো অংশ উদ্ধার করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী ওই অর্থ দিয়ে যে জমি কেনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়, সেই জমির দলিলও আলামত হিসেবে জব্দ না করাকে তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা হিসেবে আদালত উল্লেখ করেন।
কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মামলা- মামলার বাদী মাওলানা ইমরান আহমদের অভিযোগ, অলৌকিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বাদী তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন করেন। পরে সেই আবেদন খারিজ হলে তিনি সুনামগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে আদালত মামলার নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি পর্যালোচনা করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নভেম্বর ২০২০ সালের আদেশ বাতিল করেন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্তের পর নতুন অগ্রগতি- আদালতের নির্দেশে সিআইডি অধিকতর তদন্ত সম্পন্ন করে ৮ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। এরপর ৯ জুলাই আদালতে হাজিরা দিতে গেলে ইয়াকুব ও ইসমাইলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই মামলাটি শুরু থেকেই জগন্নাথপুরসহ সুনামগঞ্জজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সর্বশেষ আদালতের এ আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হলো। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে এখন সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...