বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার ছোয়াদি এলাকায় আগে থেকেই একটি ডিমবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। হাইওয়ে পুলিশ যখন দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতিতে আসা একটি ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির এক পাশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই পাঁচজন বাসযাত্রীর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহত অবস্থায় আরও বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে নেমে এসে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা প্রকাশ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতা মহাসড়কে যাতায়াতকারী আরও প্রায় ২০টি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এর ফলে মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসের আগুন নেভানোর পাশাপাশি সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও ভাঙচুর করা যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং হতাহতদের সঠিক পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...