বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এসআই মিনহাজুল হক আকিল, এসআই মোশাররফ হোসেন ও এসআই শেখ তৌফিক আমীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মদনপুর পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে আব্দুছ ছালামের গোয়ালঘর থেকে ৭টি, রফিকুল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে ৩টি এবং লুত মিয়ার গোয়ালঘর থেকে আরও ৩টিসহ মোট ১৩টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। একই সময় আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের সদস্য আব্দুছ ছালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩৮০/৪১১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুছ ছালামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া গরুর তথ্য জেলা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচার করা হলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় এসে ৭টি গরু নিজেদের বলে শনাক্ত করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মালিকানা যাচাই শেষে প্রকৃত মালিকদের কাছে গরুগুলো হস্তান্তর করা হবে।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুছ ছালামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এসআই আকামল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল একই এলাকায় পুনরায় অভিযান চালায়। এ সময় আজিজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ২টি এবং আনিক মিয়ার গোয়ালঘর থেকে আরও ২টি গরু উদ্ধার করা হয়। ফলে দুই দফা অভিযানে মোট ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সব গরু বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাদের মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। চক্রের গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, এতে গরু চুরিসহ অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, "গরু চুরির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...