বিজ্ঞাপন
নিহতের স্বজন ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সীমা রানীর সিজারিয়ান অপারেশনের (সিজার) দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. টুম্পা দেবনাথ। অপারেশন চলাকালীন অসাবধানতাবশত রোগীর জরায়ু কেটে ফেলা হয় এবং এর পরপরই অনবরত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (ব্লিডিং) শুরু হয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সেই রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে ইউনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে তাকে দ্রুত কুমিল্লায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়।
স্বজনরা রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তার সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীকে পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তশূন্যতা ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সীমা রানী।
মৃত সীমা রানীর কোলে রয়ে গেছে মাত্র তিন দিন বয়সী এক ফুটফুটে নবজাতক। চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই একটি প্রাণ অকালে ঝরে গেল এবং নিষ্পাপ শিশুটি মাতৃহীন হলো এমনটাই দাবি স্বজনদের। নিহতের ভাই পলাশ অভিযোগ করে বলেন, জরায়ু কেটে ফেলার কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর বোনের মৃত্যু হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. টুম্পা দেবনাথ ও ইউনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি এবং কোনো বক্তব্য মেলেনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...