বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের দেবুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যাটারি কারখানার ১৮ থেকে ২০ জন শ্রমিককে সেখানে দেখা গেলেও অবৈধভাবে খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ব্যাটারি কারখানার মালিক ও ম্যানেজার আগেই এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
সরেজমিনে জানা যায়, দেবুপাড়া গ্রামের মৃত সেরাজ উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলামের তিনটি, একই গ্রামের পারমদ্দিনের ছেলে আমিরুল ইসলামের একটি, খাটিয়াগছ গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে শামসুল হকের একটি এবং একই গ্রামের ইসমাইল হকের ছেলে বাচ্চুর একটি গরু মারা গেছে। এছাড়া দেবুপাড়া গ্রামের হাসানের একটি এবং হাফিজুল ইসলামের আরও একটি গরু অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় তাদের প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দেবুপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুরোনো ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার একটি কারখানা পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থানীয় সুমন রেজা ও ভজনপুরের আলামিনসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় কারখানার মালিক পুরোনো ব্যাটারি থেকে সিসা, এসিডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ আশপাশের এলাকায় ফেলতেন। ফলে কৃষিজমি, ঘাস ও পানি দূষিত হয়ে পড়ে। ওই দূষিত ঘাস ও পানি খাওয়ার পরই গরুগুলো অসুস্থ হয়ে একে একে মারা যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাটারি কারখানার এসিড মিশ্রিত ঘাস ও পানি খেয়ে তার তিনটি গরু মারা গেছে। তিনি অবৈধ এই ব্যাটারি কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আমিরুল ইসলাম বলেন, বর্গা জমি চাষ করেই তার সংসার চলে। দুটি গরুই ছিল পরিবারের প্রধান সম্বল। এর মধ্যে একটি মারা গেছে এবং অপরটি গুরুতর অসুস্থ। অসুস্থ গরুটিও মারা গেলে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্যাটারি কারখানায় বর্জ্য পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়া ও রাসায়নিক তরল পদার্থের কারণে শুধু গবাদিপশুই নয়, আশপাশের হাঁস-মুরগি, ফসল ও গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লাইছুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কারখানা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং আপাতত কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মৃত গরুগুলোর ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি অসুস্থ গরুগুলোর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ঘটনার পরপরই প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও থানা পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...