Logo Logo

সুনামগঞ্জে ঘুমন্ত শিশুর নিথর দেহ মিলল সেফটি ট্যাংকিতে


Splash Image

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে আট মাস বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে শোক, উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় বাবার পাশ থেকে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশু আমির হামজার মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি সেফটি ট্যাংকির ভেতর থেকে।


বিজ্ঞাপন


ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

নিহত শিশু আমির হামজা লালপুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে শিশুটির মা সাবিকুন নাহার ছেলেকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবা সাব্বির হোসেনের কাছে রেখে শ্বশুরবাড়িতে যান। সকাল প্রায় ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সাব্বির হোসেন দেখতে পান, বিছানায় তার ছেলে নেই। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম মিয়া একটি সেফটি ট্যাংকির ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ, পিপিএম-এর নেতৃত্বে এসআই মোহন দাসসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেফটি ট্যাংকি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের মণির হোসেন (৩০), জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), রাবেয়া বেগম (৫৫) এবং আফিয়া বেগম (৩৫)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক ধারণা, নিহত শিশুর বাবা সাব্বির হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ, পিপিএম বলেন, "ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...