Logo Logo

রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় অর্ধশতাধিক পেশাদার শুটার


Splash Image

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পেশাদার খুনি ও চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে অর্ধশতাধিক পেশাদার 'শুটার' সরাসরি মাঠপর্যায়ে হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির মিশন বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও খুনাখুনি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে সন্ত্রাসী নিজেরাও প্রাণ হারাচ্ছে। সম্প্রতি সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই নিহত হন।


বিজ্ঞাপন


গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুবাই, থাইল্যান্ড, ভারত ও সুইডেনে পলাতক এবং জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আড়ালে থেকে এসব শুটার পরিচালনা করছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং আসন্ন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কোন্দল থেকেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে। বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা ঢাকার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের ফোনে চাঁদা দাবি করছে এবং চাঁদা না দিলে পেশাদার কিলারদের লেলিয়ে দিচ্ছে।

সর্বশেষ মিরপুর-১৩ এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যা মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর 'চুক্তিভিত্তিক' হত্যাকাণ্ডের সত্যতা পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত অনুযায়ী, এক প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি (সুপারি) করা হয়েছিল। এই মিশন সফল করতে ঝিনাইদহ ও মাগুরা অঞ্চল থেকে চার জন পেশাদার শুটার ভাড়া করে আনা হয়। মূল টার্গেট অক্ষত থাকলেও গুলিতে প্রাণ হারান ইউসুফ। এই ঘটনায় জড়িত শুটারসহ আট জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

গোয়েন্দারা জানান, মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, কাফরুল, বাড্ডা, সবুজবাগ এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় কিলারদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। তাদের কাছে ছোট ও ভারী দুই ধরনের অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যা সীমান্তের মালবাহী যানবাহনে ঢাকায় প্রবেশ করছে। কেবল গত ১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে রাজধানীতে ইউসুফ ছাড়াও ভাসানটেকে কাউসার মোল্লা, সবুজবাগে ইব্রাহীম পলাশ এবং হাজারীবাগে সাগর আহমেদ নামের চার জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ইব্রাহীম পলাশের দুই হাতের কবজি কেটে নিয়ে যায় আততায়ী।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রাজধানীতে ১২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার একটি বড় অংশই ঘটিয়েছে এসব চুক্তিভিত্তিক শুটার। লুণ্ঠিত অস্ত্রের ব্যবহারও এই সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব মতে, বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৯ রাউন্ড গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। অবশ্য গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে সারা দেশ থেকে ৭৬টি পিস্তল, ৩০টি শুটার গান, ৩৩টি এলজি এবং অন্যান্য ভারী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ সীমান্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক অস্ত্র কারবারিদের নির্ধারিত ১৭ থেকে ৩০টি রুট ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে। ছোট আগ্নেয়াস্ত্র প্রধানত যশোরের বেনাপোল, শার্শা, চৌগাছা ও দর্শনা সীমান্ত এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের অরক্ষিত পথ দিয়ে ঢুকে রাজশাহী ও নওগাঁ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম সীমান্ত হয়ে ভারী অস্ত্র, সাব-মেশিনগান ও হ্যান্ড গ্রেনেড টেকনাফ ও উখিয়া রুট দিয়ে প্রবেশ করছে।

গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের দমন করা হচ্ছে। অন্যদিকে অপরাধ বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু মামলার পরিসংখ্যান দিয়ে এই গভীর অপরাধ চক্র ঠেকানো যাবে না। ভাড়াটে শুটার রোধে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে কড়া নজরদারি এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...