Logo Logo

সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় বিশাল মানববন্ধন, দ্রুত ইজারা চালুর দাবি


Splash Image

সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদীকে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের হাত থেকে রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সরকারের রাজস্ব নিশ্চিতকরণ এবং আইনানুগভাবে দ্রুত বালুমহালের ইজারা চালুর দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) এলাকায় ‘ধোপাজান চলতি নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবেশ সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন। নদী রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধন একপর্যায়ে গণজাগরণে রূপ নেয়।

আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা এরশাদ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ নূরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম হোসেন অভি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা শেখ এমদাদুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, অমিত তালুকদার ও আজিজুর রহমান রুহেল, যুগ্ম সদস্য সচিব শফিকুল বারী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী।

বক্তারা বলেন, ধোপাজান চলতি নদী শুধু একটি নদী নয়; এটি সুনামগঞ্জের অর্থনীতি, জীবিকা ও পরিবেশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বহু মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এই নদীকেন্দ্রিক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নদীর বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার ও বিভিন্ন নৌযান ব্যবহার করে অবাধে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে। এর ফলে সরকার প্রতিবছর শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্বিচারে লুটপাটের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এবং নদীপাড়ের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, নদীপথে পুলিশি চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন গভীর রাতে বালু ও পাথরবোঝাই নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচল করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করা, আইনানুগভাবে বালুমহালের ইজারা না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ রাখা, নদী এলাকায় রাতের প্রশাসনিক টহল ও নজরদারি জোরদার করা, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা, অবৈধ সিন্ডিকেট ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পরিবেশ এবং ধোপাজান চলতি নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় আরও কঠোর আন্দোলন ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রহমতুল্লাহ, আলাউর রহমান, মাজহারুল ইসলাম সুবেল, মো. শরীফ, জুলাই যোদ্ধা, আজিজুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শ্রমজীবী মানুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত, কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের দাবি, ধোপাজান চলতি নদীকে রক্ষা করা গেলে যেমন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুনামগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী নদীকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...