Logo Logo

বগুড়ায় ভাড়া বাসায় নারীর ঝুলন্ত লাশ, হত্যা মামলা দায়ের


Splash Image

বগুড়া সদর উপজেলার মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তানজিলা ইয়াসমিন দীপা (২৫) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের দ্বিতীয় স্বামী শেখ আবীদ উল সানি (২৮) পলাতক রয়েছেন।

নিহত তানজিলা ইয়াসমিন দীপা বগুড়া সদর উপজেলার নারুলী আনন্দপাড়া এলাকার খয়বর প্রামানিকের মেয়ে। তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে সম্প্রতি স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে তানজিলার প্রথম বিয়ে হয়। ওই সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। কিছুদিন পর সেখান থেকে বের হয়ে যান। গত মে মাসে পরিবারের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ করে তিনি জানান, রংপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) চাকরি পেয়েছেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে বগুড়া শহরের শিববাটী এলাকার বাসিন্দা শেখ আবীদ উল সানির সঙ্গে তানজিলার বিয়ে হয়। পরে তারা মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকার সোহেল আল মাসুদের তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সানি প্রতিবেশীদের জানান, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং তিনি পুলিশ ডেকে আনতে যাচ্ছেন। তবে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে শেখ আবীদ উল সানিসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পরকীয়ার সম্পর্ক ও প্রলোভনের মাধ্যমে তানজিলার প্রথম সংসার ভেঙে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, উদ্ধারকালে তানজিলার হাঁটু মেঝের সঙ্গে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল এবং তার বাঁ হাতের কবজির ওপরের রগ কাটা ছিল।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি বাহ্যিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। মরদেহের একটি হাত কাটা ছিল এবং ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক সোহেল আল মাসুদকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...