বিজ্ঞাপন
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, “আমি আপনাদের আবেগ ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কথা দিচ্ছি, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।”
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি প্রকৃত অর্থে সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের স্থান থাকবে না। এই আদর্শ বাস্তবায়নে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এবং অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের পাশে নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়াতে চায় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব অল্প সময়ে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তা সত্ত্বেও শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তার আগের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির চার শতাধিক নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন। পাশাপাশি হাজারো মানুষ গুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতাই বর্তমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, তাদের মূল রাজনৈতিক পরিচয় বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি এবং বাংলাদেশকেন্দ্রিক রাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ঐক্যে বিশ্বাসী সব মানুষকে একই আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মুখোমুখি হন।
মাহদী আমিন বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠলে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা একযোগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় তারা দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...