বিজ্ঞাপন
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জোটের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোট সংসদ ও সংসদের বাইরে গণভোট ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে একজন যৌথ ও একক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই পদে জোটের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ছয়বারের নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, যার অভিভাবকত্ব বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান সরকারের অবস্থান এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বিচারিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বজনগ্রাহ্য নতুন ফর্মুলার আলোচনা হলেও সরকার তা অনুসরণ করছে না। গণভোটে জনগণের ৭০ শতাংশ ম্যান্ডেট থাকা সত্ত্বেও সরকার তা অস্বীকার করছে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি প্রথম অধিবেশনেই উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা না করে কালক্ষেপণ করেছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে যখন অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর রূপান্তর ঘটবে, তখন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে জাতির মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মনোনীত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ স্বীকার করেন যে, সংসদীয় নিয়মে সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীরই প্রাধান্য থাকে। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা সুস্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তারা নির্বাচনে এই অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...