বিজ্ঞাপন
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি খলনায়ক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডনকে ইতোমধ্যে আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে তোলা হবে। ১৯৯৬ সালে চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় এ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তদন্তে নতুন গতি পেল।
মামলার বিবরণ ও অতীত প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসভবনে রহস্যজনক অবস্থায় মৃত পাওয়া যায় নব্বইয়ের দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে। সে সময় তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করলেও পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর রিভিশন আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে রাজধানীর রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও খলনায়ক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ডনসহ মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ে নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছিলেন মামলার বাদী সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। এজাহারে উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে সালমান শাহর বাসায় গিয়ে তাঁকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং বহিরাগত কয়েকজন নারীকে তাঁর শরীরে তেল মালিশ করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের পর মামলাটিতে সম্প্রতি সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশও দেন আদালত।
মামলাটির বর্তমান তদন্তের অগ্রগতি হিসেবে আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। এর মাঝেই দেশত্যাগের চেষ্টার সময় বা বিমানবন্দর এলাকা থেকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত খলনায়ক ডনকে সিআইডি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেওয়ায় মামলাটির মোড় নতুন দিকে ঘুরতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...