Logo Logo

বকশীগঞ্জে জনদুর্ভোগ

গরমে হাঁসফাঁস, তার ওপর কারেন্টের লুকোচুরি


Splash Image

কারেন্ট কখন আসে, আর কখন যায়—তার ঠিক নেই। এমন মন্তব্য এখন বকশীগঞ্জের অনেক বিদ্যুৎ গ্রাহকের। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।


বিজ্ঞাপন


জানা যায়, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। এটি শেরপুর জেলার গাজীর খামার গ্রিড সাব-স্টেশন কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। বকশীগঞ্জ সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্রের আওতায় প্রায় ৭৫ হাজার আবাসিক এবং ১ হাজার ৭০০ সেচ গ্রাহক রয়েছে।

বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১৩ মেগাওয়াট। অন্যদিকে অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮ মেগাওয়াট। এ সময়ও ঘাটতি থাকছে ৮ মেগাওয়াট।

চাহিদা ও সরবরাহের এই ব্যবধানের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাহাত বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।

ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজু বলেন, বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পর আবার চলে যাচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বগারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফ বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এমন সংকটে মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা দরকার।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ মহাব্যবস্থাপক (বকশীগঞ্জ জোনাল অফিস) মোঃ আকবর হোসেন মিঞা বলেন, বকশীগঞ্জে পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮ মেগাওয়াট। আর অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। সরবরাহ বাড়লে বকশীগঞ্জেও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে আসবে।

স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে লোডশেডিং কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...