Logo Logo

ফেনীতে অভাবের সুযোগ নিয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ


Splash Image

ফেনীতে অভাব-অনটন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিশু চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি জেলার লেমুয়া ইউনিয়নের রামপুর চৌকিদার বাড়ি এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দিনমজুরি ও অন্যের সহায়তায় কোনোভাবে সংসার চালান। পরিবারের অভিযোগ, এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী প্রভাবশালী পরিবারের যুবক ইমন (২৭) ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা শিশুটিকে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির বাবা সামাজিকভাবে বিচার পাওয়ার আশায় স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তের বাবা আবুল কালাম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকে প্রতিবন্ধী বাবাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ এবং পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির বাবা বলেন, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দিন এনে দিন খান। তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তার মেয়ের জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তিনি মেয়ের জন্য সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, এটি কোনো সামাজিকভাবে মীমাংসার বিষয় নয়; নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সালিশের মাধ্যমে এমন অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। তারা দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পাশাপাশি শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...