বিজ্ঞাপন
আদালতে জামিনের পক্ষে ও বিপক্ষে দীর্ঘ আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। বাদীপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়ার্দ্দার। শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আসামিরা সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদা দাবি এবং কাজের পরিবেশ বিনষ্টের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে আসামিরা বাইরে থাকলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে, যা জনস্বার্থ বিরোধী। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী।
এদিকে শুনানি শেষে আসামিদের আদালত চত্বর থেকে বের করার সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। চত্বরে উপস্থিত পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ছবি তুলতে গেলে তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন আছাড় দিয়ে ফেলে দেন। পরবর্তীতে উপস্থিত অন্যদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ সংস্কার কাজ পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশন। গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের কাছে আসামিরা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি আসছিল। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে বেড়িবাঁধের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত ১৯ মে রাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম নিজে উপস্থিত হয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে কর্মচারীদের হত্যার হুমকি প্রদান করেন।
অভিযোগের মাত্রা আরও বাড়ে গত ২৩ মে, যখন প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ ২০-২৫ জন লোক সাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকে মারধর করেন। এ সময় প্রকৌশলীর দামি স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়। পুরো তাণ্ডবের বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করে গত ২৫ মে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন। মামলায় জামায়াত নেতা নজরুলকে প্রধান আসামি করে তার ছেলে ও সহযোগীদের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়। তবে শুরু থেকেই নজরুল ইসলাম এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক চক্রান্ত ও বানোয়াট দাবি করে আসছেন।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশপাশের এলাকা প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। বর্ষা মৌসুমের পূর্বে দুর্বল বেড়িবাঁধ সময়মতো সংস্কার বা নির্মাণ না করা গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেড়িবাঁধের কাজ চাঁদার দাবিতে আটকে থাকা এবং প্রধান অভিযুক্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...