Logo Logo

১৩ শিক্ষকের ১৩ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ


Splash Image

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি সদর উপজেলার মোস্তফাবাদ কাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি কেউই।


বিজ্ঞাপন


এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগে, ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় এ মাদ্রাসা থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯ জন পাস করেছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসাটির সুপার কে এম আব্দুল্লাহর গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং পাঠদান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। কাগজ-কলমে মাদ্রাসায় ২৫২ জন শিক্ষার্থীর কথা বলা হলেও বাস্তবে নিয়মিত চার-পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্লাসে দেখা যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থাপনার মধ্যেও শিক্ষার মানের দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় মাদ্রাসাটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

মাদ্রাসা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফাবাদ কাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমানে ১৩ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৬ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের প্রতি মাসে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। কাগজ-কলমে মাদ্রাসায় ২৫২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত চার-পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।

সম্প্রতি মাদ্রাসায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার সুপার কে এম আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন অফিসকক্ষে বসে খোশগল্পে মেতে আছেন। আর তিনজন শিক্ষক তিনটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন। বাকি সাতটি শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় বায়েজীদ হাওলাদার, মো. সরোয়ার তালুকদার, মো. জসিমসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, শিক্ষকরা সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে আসেন। মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান খুবই খারাপ। শিক্ষকরা ক্লাস চলাকালে বাজারের দোকানে এসে চা পান করেন, আড্ডা দেন ও গল্প করেন। ওইদিকে শিক্ষার্থীরা চলে যায়। মাদ্রাসার সুপার ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারেন না। যার কারণে বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে।

এ বিষয়ে মোস্তফাবাদ কাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কে এম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এ বছর খুবই খারাপ হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। এ বছর পরীক্ষার ব্যাচটি খারাপ ছিল। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে না। মাদ্রাসায় ঠিকমতো আসে না।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর ঝালকাঠি পৌরসভার জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন, মাদ্রাসার দায়িত্ব পেয়েছেন বেশি দিন হয়নি। মাদ্রাসার অবস্থা খুবই খারাপ, এগুলো ঠিক করতে সময় লাগবে। তবে শিক্ষকদের গাফিলতি আছে, সেটা তিনি প্রমাণ পেয়েছেন। মাদ্রাসার সুপার যদি কঠোর হতেন এবং ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারতেন, তাহলে মাদ্রাসার অবস্থা এমন হতো না।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব কী কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে। কীভাবে সামনে ভালো করা যায়, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদেরও। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এমন ফলাফলের কারণ খুঁজে বের করে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান—সবকিছু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...