Logo Logo

অবৈধ জালে অস্তিত্ব সংকটে দেশীয় প্রজাতির মাছ


Splash Image

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাছে ভাতে বাঙ্গালী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও দেশে চলছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকট। এক সময় বর্ষায় নদী নালা, খাল, বিলে দেখা মিলতো দেশীয় মাছের প্রাচুর্যতা।


বিজ্ঞাপন


কিন্তু বর্তমানে অবৈধ বিভিন্ন জালের অবাধ ব্যবহারে সংকটে দেশীয় মাছ। মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ রিং, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছের ভান্ডার। শুধু মাছই নয়, খালের উপকারী ব্যাঙ, পোকামাকড় ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং হুমকির মুখে পড়েছে জলজ বাস্তুতন্ত্র। শিবচর উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলে এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার চোখে পড়লেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী চায়না দুয়ারি জাল বাংলাদেশে ব্যবহার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে এই জাল। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করলেও জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে অবৈধ ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলের অগভীর অংশে অর্ধেক পানিতে ডুবিয়ে এবং অর্ধেক পাড়ে রেখে চায়না দুয়ারি জাল পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব জাল দিনের পর দিন পানিতে ফেলে রাখা হচ্ছে। সব উপজেলার প্রায় সব নদী-খাল-বিলে হাওরেই দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারেও উঠছে না আগের মতো দেশীয় সুস্বাদু মাছ। মাছের পাশাপাশি পুরো জলজ পরিবেশই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জানা যায়, আগে নতুন পানি এলেই নদী-খাল-বিলে শোল, গজার, টেংরা, পাবদা, কৈ, বোয়াল, আইড়, মাগুর, শিং, পুঁটি, বাইম, চিংড়ি, বাইলা ও নানিসহ নানা দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন সেই মাছের দেখা খুব কমই মেলে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা, ডিমওয়ালা মা-মাছ, এমনকি মাছের ডিমও নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। চায়না দুয়ারি জাল লম্বায় সাধারণত ৩০ থেকে ৮০ ফুট এবং উচ্চতায় প্রায় এক থেকে দেড় ফুট হয়ে থাকে। লোহার রিং দিয়ে তৈরি কাঠামোর চারপাশে খুব সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল লাগানো থাকে। আকার ও মানভেদে একটি জালের দাম দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার হাজার টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারি জাল একটানা পানিতে রেখে মাসের পর মাস মাছ ধরা যায়। দামও তুলনামূলক কম। বিভিন্ন দোকানে সহজেই পাওয়া যায়। অন্যদিকে দেশীয় জাল দীর্ঘদিন পানিতে রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই অনেকেই চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করেন।

শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা সারা বছরই চায়না দুয়ারি জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলছে। মাছ শিকারীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...