বিজ্ঞাপন
সদর উপজেলার ইটাখোলা, রামনগর, সোনারায় ও চওড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সার ও কীটনাশকের সাশ্রয়ী ব্যবহার, কম পরিশ্রমে আগাছামুক্ত পরিবেশ এবং উচ্চ ফলন নিশ্চিত হওয়ায় কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রযুক্তিটির সার্বিক ব্যবহারের ফলে জেলায় সবজির সামগ্রিক উৎপাদন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
ইটাখোলা ইউনিয়নের বাদিয়ারমোড় এলাকার সফল কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারে তিনি অভূতপূর্ব সুফল পেয়েছেন। চারা রোপণের পর নিয়মিত তদারকি ছাড়া বাড়তি তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। গত বছর এই পদ্ধতিতে সাফল্য পাওয়ার পর চলতি মৌসুমে তিনি লম্বা বেগুন, টমেটো, করলা ও শিম চাষ করেছেন এবং ভালো ফলনের আশা করছেন।
একই উপজেলার অপর কৃষক আবু তালেব জানান, তিনি তাঁর ১৫ শতক জমিতে টমেটো, ২০ শতক জমিতে লম্বা বেগুন, ১৫ শতক জমিতে শসা ও করলা, ১০ শতক জমিতে টমেটো, ৪ শতক জমিতে ফুলকপি এবং ৫ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে অবকাঠামোগত কিছুটা অতিরিক্ত খরচ হলেও পরবর্তীতে আর কোনো বড় ধরনের ব্যয় থাকে না। আধুনিক এই চাষাবাদ দেখতে আশপাশের অনেক কৃষক তাঁর জমিতে আসেন।
প্রথমবারের মতো ৩০ শতক জমিতে শসা চাষ করা রামনগর ইউনিয়নের কৃষক মহিউদ্দিন সরকার বলেন, মালচিং একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও আধুনিক পদ্ধতি। প্লাস্টিক বা ছায়াদানকারী উপকরণের ব্যবহারে জমিতে আগাছা কম জন্মায়, ফলে শ্রমিক ও পরিচর্যা খরচ অনেকাংশে বেঁচে যায়। পাশাপাশি জমিতে সার কম লাগে এবং পোকা-মাকড় বা রোগের আক্রমণ কম হওয়ায় সাধারণ চাষাবাদের চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া যায়।
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের অগ্রগতি সম্পর্কে নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকদের মাঝে এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে বীজ, সার ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...