বিজ্ঞাপন
আহত বৃদ্ধের নাম জুলহাস কাজী (৬২)। তিনি মুকসুদপুর উপজেলার রাগদী ইউনিয়নের তপারকান্দি এলাকার মৃত আব্দুল গফুর কাজীর ছেলে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তপারকান্দি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার করম মাতবরের ছেলে জাকির মাতবর ও তাঁর ছেলে বাপ্পি মাতবর। বর্তমানে গুরুতর আহত জুলহাস কাজী গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জাকির মাতবর ও তাঁর ছেলে বাপ্পি মাতবর পূর্বে ঢাকার টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থান করতেন। সেখানে সাবেক এক সংসদ সদস্যের ছত্রছায়ায় ইজতেমা মাঠ দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁরা টঙ্গী ছেড়ে মুকসুদপুরে চলে আসেন এবং এখানেও জমি দখল ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হন।
হামলার বর্ণনা দিয়ে আহত জুলহাস কাজী জানান, তাঁর দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন এবং তিনি নিজেও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। সম্প্রতি অভিযুক্ত বাবা-ছেলে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বুধবার রাতে ধারালো চাইনিজ কুড়াল ও রামদা নিয়ে তাঁর ওপর কুপিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। আত্মরক্ষা করতে গেলে কোপে তাঁর হাত মারাত্মকভাবে কেটে যায় এবং মাথায়ও গুরুতর জখম হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে লুটপাট চালিয়ে ২৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের শয্যা থেকে ভুক্তভোগী জুলহাস কাজী বলেন, "আমি এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমি ও আমার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা চাই।"
এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার নিশ্চিত করেছে। ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...