বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে ভুক্তভোগী এক নারী আসমা বেগমের নামে প্রতারণার অভিযোগ পৌঁছেছে বরিশাল থানায়। তিনি কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা গ্রামের বাসিন্দা। কয়েকদিন আগে গ্রামে ফেরি করে সিম বিক্রি করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাত্র ১০ টাকায় একটি সিম কেনেন তিনি। নিজের এনআইডি দিয়ে সিমটি নিবন্ধনও করেন। তবে সিমটি চালু না হওয়ায় বিক্রেতারা নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা বলে সেটি চালু করে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যান। এরপর সিমটি আর ফেরত দেননি তাঁরা। এমনকি সিমের দামও নেননি।
এর কয়েকদিন পরই বিপাকে পড়েন আসমা বেগম। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কামরুল ইসলামের কাছে বরিশান থেকে একটি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, বরিশালের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের তথ্য অনুসন্ধান করে আসমা বেগমের নাম ও ঠিকানা পাওয়া গেছে।
বিষয়টি জানার পর হতভম্ব হয়ে পড়েন আসমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নিজের নামে নিবন্ধিত সিম অন্য কেউ ব্যবহার করে প্রতারণা করেছে—এমন আশঙ্কায় গত ১৫ আগস্ট কাশিয়ানী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
আসমা বেগম বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের বিকাশ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নই। আমি সহজ-সরল মানুষ। কম দামে পেয়ে নিজের ব্যবহারের জন্য সিমটি কিনেছিলাম। এখন জানতে পারছি, আমার নামে নিবন্ধিত নম্বর দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
শুধু আসমা বেগম নন, একই গ্রামের রোকেয়া বেগম, নূপুর খানমসহ আরও কয়েকজন নারীও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের অভিযোগ, ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে কম দামে সিম কেনার সময় নিজেদের এনআইডি দিয়ে সেগুলো নিবন্ধন করেছিলেন। পরে সিম চালু করে দেওয়ার কথা বলে বিক্রেতারা সেগুলো নিয়ে গেলেও আর ফেরত দেননি।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বরিশাল থানা থেকে আমার মোবাইল নম্বরে ফোন আসে। ফোনে আসমা বেগমকে আমি চিনি কি না এবং তিনি কতদিন ধরে বিকাশ প্রতারণা করছেন, তা জানতে চাওয়া হয়। বিষয়টি শুনে আমি অবাক হই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ওই নারীরা কয়েকদিন আগে ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে সিম কিনেছিলেন। নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা বলে সিমগুলো চালু করে দেওয়ার কথা বলে বিক্রেতারা তাঁদের কাছ থেকে নিয়ে গেছে।’
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। শনাক্ত করতে পারলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...