Logo Logo

রাজাপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে আনসার সদস্যকে মারধর করলেন অপর আনসার


Splash Image

গেঞ্জি পড়া অভিযুক্ত আনসার সদস্য রাহাত, পোশাক পড়া আনসার সদস্য সুমন।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে শিশুর চিকিৎসা নিতে গিয়ে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্যকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে অপর এক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন


রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর এলাকার মো. হানিফ খানের ছেলে এবং বরগুনায় আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত মো. রাহাত হোসেন খান (২৩) এবং তাঁর বোনজামাই সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার মো. শামসুল হকের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম শামীম (৩৭)।

সিসিটিভি ফুটেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাইদুল ইসলাম শামীম তাঁর এক বছর বয়সী সন্তান তাসবিহকে চিকিৎসার জন্য রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ সময় শিশুটির মা, আনসার সদস্য রাহাতসহ কয়েকজন স্বজন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম মানুষের ভিড়ের কারণে শিশুটিকে দেখে একজন স্বজন ছাড়া বাকিদের বাইরে যেতে বলেন। এ সময় রাহাত চিকিৎসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো. সুমন তাঁকে সরে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে রাহাত আনসার সদস্য সুমনকে মারধর করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। পরে সাইদুল ইসলাম শামীমও এতে জড়িয়ে পড়েন।

তবে রাহাত হোসেনের দাবি, তাঁর ভাগনির নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি জরুরি বিভাগে ঢুকলে তাঁকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় তিনি চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। এ সময় চিকিৎসক বলেন, ‘আপনারা এত লোক কেন, বাইরে বের হন।’ তখন আনসার সদস্য সুমন এসে তাঁকে ধাক্কা দেন। তিনিও পাল্টা ধাক্কা দেন বলে দাবি করেন রাহাত।

অন্যদিকে, আনসার সদস্য মো. সুমনের দাবি, চিকিৎসক শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় স্বজনরা তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকায় চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছিল। এ সময় চিকিৎসক রাহাতকে সরে যেতে বলেন। পরে রাহাত চিকিৎসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছিলেন। তখন তিনি এসে রাহাতকে সরে যেতে বললে রাহাত বলেন, ‘আপনাদের থেকে আইন শিখতে হবে।’ এ কথা বলেই রাহাত তাঁকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন বলে দাবি করেন সুমন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম বলেন, জরুরি বিভাগের ভেতর হট্টগোল শুরু হলে তিনি সবাইকে শান্ত হতে বলেন। পরিস্থিতি শান্ত না হলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি। এ সময় আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটায় রোগীর স্বজনরা।

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেজাবীন ফারহানা নিসা বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...