Logo Logo

প্রখ্যাত মার্কিন নারীবাদী ও সাংবাদিক গ্লোরিয়া স্টাইনেম আর নেই, বয়স হয়েছিল ৯২ বছর


Splash Image

ছবিঃ ইন্টারনেট

আমেরিকায় নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বিশ্বজুড়ে লিঙ্গসমতা ও মানবাধিকারের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর নেই। নিউইয়র্ক সিটির নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি লেখক ও সমাজকর্মী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিশ্চিত করেছে, প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সান্নিধ্যে বুধবার রাতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে চিরবিদায় নেন।


বিজ্ঞাপন


গ্লোরিয়া স্টেইনেমের প্রয়াণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নারী অধিকার আন্দোলনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। ১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইওর টলেডোতে এক সংগ্রামী পরিবারে জন্ম নেওয়া স্টেইনেমের শৈশব ছিল নানা টানাপোড়েনে ভরা। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে গবেষণার কাজে ভারতে এসে গ্রামীণ নারীদের অহিংস প্রতিবাদে যুক্ত হন তিনি। সেখান থেকেই মূলত তাঁর মাঝে তৃণমূল মানবাধিকার আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়।

ষাটের দশকে নিউইয়র্কে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন স্টেইনেম। ‘প্লেবয় বানি’ ক্লাবের ভেতরের নারীদের কাজের অমানবিক পরিস্থিতি নিয়ে ছদ্মবেশী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখে তিনি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সাড়া জাগানো নারীবাদী সাময়িকী ‘মিস.’ (Ms.) ম্যাগাজিন। রূপচর্চা ও গৃহস্থালির গণ্ডি ছাড়িয়ে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে মূলধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই প্রকাশনাটি এক বৈপ্লবিক ইতিহাস রচনা করে।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে ‘উইমেনস অ্যাকশন অ্যালায়েন্স’ গড়ে তুলেছিলেন গ্লোরিয়া। ১৯৭০-এর দশকে গর্ভপাত ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সাংবিধানিক স্বীকৃতির পক্ষে তিনি ছিলেন সবচেয়ে সোচ্চার মুখ। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান বেতন, সমলিঙ্গের বিয়ের অধিকার, মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা এবং নারী খৎনা প্রথার বিরুদ্ধে তিনি আজীবন আপসহীন লড়াই চালিয়ে যান। মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’-এ ভূষিত করেন।

জীবনের সিংহভাগ সময় বিয়ের প্রথাগত ধারণার বাইরে কাটালেও ২০০০ সালে তিনি পরিবেশবিদ ডেভিড বেলকে বিয়ে করেন, যিনি তিন বছর পরই মারা যান। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্টেইনেম লিখে গেছেন এবং নিজ বাড়িতে বিভিন্ন সমাজকর্মীদের নিয়ে ‘টকিং সার্কেল’ পরিচালনা করেছেন। তাঁর আসন্ন গ্রন্থ ‘অ্যান আনএক্সপেক্টেড লাইফ’ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। গ্লোরিয়া স্টেইনেমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন রাষ্ট্রনেতা, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

- সূত্রঃ BBC

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...