Logo Logo

পুলিশের বক্তব্যে ধোঁয়াশা

সুনামগঞ্জে ‘মব’ করে আসামি ছিনতাই : উদ্ধার হাতকড়া, এখনও অধরা আসির


Splash Image

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ এক আসামিকে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ওই হাতকড়া উদ্ধার করা হলেও অভিযুক্ত আসির মিয়া এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


তবে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারা, স্থানীয়দের মাধ্যমে হাতকড়া উদ্ধার, ঘটনার রাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাতকড়াসহ আসামির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা এবং পরদিন বক্তব্য পরিবর্তন করে হাতকড়া উদ্ধারের কথা স্বীকার করায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন আসির মিয়া। তার অভিযোগ, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে আটক করে হয়রানি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই লাইভে তার হাতে হাতকড়া দেখা গেছে। এ নিয়ে পুলিশের অভিযান, আসামিকে আটকের বৈধতা এবং পুরো ঘটনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মারজান আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আসামির হাতকড়া খুলতে তো চাবি লাগবে। পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া হাতকড়া কীভাবে খোলা হলো? তাহলে চাবি ছাড়া হাতকড়া কীভাবে খুলে উদ্ধার করা হলো—এ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।”

হোসাইন আহমদ সোহান বলেন, “মিথ্যা মামলায় জেনেশুনে চা-নাস্তা খেয়ে ওয়ারেন্ট ছাড়া আসামি ধরতে গেলে এই ধরনের পরিস্থিতিই সৃষ্টি হবে।”

পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসকির আলী জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে হাতকড়া উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্ত আসির মিয়ার কাছ থেকে হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে আটক করে। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় সেখানে হঠাৎ উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

এ সময় নারীসহ আসির মিয়ার কয়েকজন স্বজন তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসির মিয়া হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানায়।

পালানোর প্রায় আধাঘণ্টা পর অজ্ঞাত স্থান থেকে নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভে আসেন আসির মিয়া। সেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ তাকে আটক করে বেআইনিভাবে হয়রানি করেছে। ওই সময় তার হাতে হাতকড়া পরা ছিল।

ঘটনার রাতে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলিউল্লাহ হাতকড়াসহ আসামির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে পরদিন সকালে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে জানান, হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু আসামিকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ওসি অলিউল্লাহ বলেন, “গত রাতে দামোধরদপী এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তার অবস্থানও জানা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশের ওপর হামলা ও হাতকড়াসহ আসামি পলায়নের ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরে পুলিশ এসল্ট ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, “হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামি হয়তো কোথাও হাতকড়া রেখে চলে গেছে। পরবর্তীতে সে বলেছে হাতকড়া কোথায় আছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতেই হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “হাতকড়া যদি খুলে রেখে আসামি চলে যেত, তাহলে ওই সময় তাকে পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। পুলিশের সঙ্গে কোনো সমঝোতার প্রশ্নে বিষয়টি সঠিক নয়। আসামিকে গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...