বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত টুপকারচর এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সরকারি ভর্তুকি মূল্যের সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে একটি অসাধু চক্র অতিরিক্ত মুনাফার লোভে রাতের অন্ধকারে সার মজুত ও অন্য উপজেলায় পাচারের পাঁয়তারা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন জানতে পারে, একটি ভ্যানগাড়িতে বিপুল পরিমাণ ডিএপি সার গোপনে বকশীগঞ্জ থেকে সীমান্তবর্তী ইসলামপুর উপজেলার দিকে নেওয়া হচ্ছে।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও মুরাদ হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসনিক দল তাৎক্ষণিকভাবে টুপকারচর সড়কের কৌশলগত পয়েন্টে অবস্থান নেয়। রাত একটার দিকে সন্দেহভাজন ভ্যানটি ওই এলাকায় পৌঁছালে গতিরোধ করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ভ্যানে থাকা অবৈধভাবে পরিবহনকৃত ২৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পাচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্ধকারে সটকে পড়ে।
পরবর্তীতে জব্দকৃত সমস্ত রাসায়নিক সার আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন জানান, “কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার কোনোভাবেই অবৈধ পথে পাচার বা কালোবাজারি করতে দেওয়া হবে না। এই ২৩ বস্তা ডিএপি সার ঠিক কোথা থেকে কেনা হয়েছিল, কার গুদাম থেকে বের করা হয়েছে এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেপথ্যে জড়িত ডিলার বা পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এমন তদারকি ও নিয়মিত অভিযান কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...