বিজ্ঞাপন
রোববার সকালে গণমাধ্যমকে ওসির প্রত্যাহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার।
জেলা পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে আকস্মিক একটি মিছিল বের করে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই এলাকায় প্রকাশ্যে এমন মিছিলের ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি এবং ওসির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
মিছিলের এই ঘটনার পাশাপাশি ওসির বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা, আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাসভবনে আয়োজিত এক রাজকীয় ভূরিভোজে সশরীরে অংশ নেন ওসি মো. আবদুর রহিম সরকার। একজন বিতর্কিত দলীয় নেতার বাড়িতে ওসির এমন আপ্যায়ন গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনসহ সর্বমহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। এর পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার আদেশের পর ওসি দায়িত্ব হস্তান্তর করে থানা ত্যাগ করেন। তিনি আরও জানান, কাবিলপুরের বটতলা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় শনিবার রাতেই সেনবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, “মূলত স্থানীয় একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত গ্রহণ ও ভূরিভোজে অংশ নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতেই ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...