Logo Logo

বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হলো ‘ডাক্তার শামসুল হুদা ও আঞ্জুমান আরা সেবাকেন্দ্র’-এর ৩য় জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্মেলন


Splash Image

এ এম রিয়াজ কামাল হিরণ, চট্টগ্রাম।। অত্যন্ত প্রাণবন্ত, জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মানবসেবামূলক সংগঠন "ডাক্তার শামসুল হুদা ও আঞ্জুমান আরা সেবাকেন্দ্র"-এর ৩য় জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্মেলন।


বিজ্ঞাপন


১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আগত শত শত তরুণ, নিবেদিতপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক স্বেচ্ছাসেবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহাসিক মিলনমেলা।

আলহামদুলিল্লাহ, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে এই বৃহৎ আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং আগামী দিনে মানবিক ও সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত ও বেগবান করা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে ছুটে আসা স্বেচ্ছাসেবকদের এই উপস্থিতিই ছিল সম্মেলনের মূল প্রাণ ও চালিকাশক্তি।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি তাঁর জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যে বলেন, "একটি মানবিক ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিসীম। ডাক্তার শামসুল হুদা ও আঞ্জুমান আরা সেবাকেন্দ্র যেভাবে সারা দেশে সেবার আলো ছড়াচ্ছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়।" তিনি আগামী দিনে সংগঠনের এই সেবামূলক ধারাকে আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিলটন কুমার দেব। তিনি স্বেচ্ছাসেবকতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলঙ্কৃত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. সঞ্চিতা গুহ, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ আশিক দত্ত, এবং সীতাকুণ্ড রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্মানিত সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণব্রতানন্দ। অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে চিকিৎসা, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চেতনার আলোকে মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং তরুণদের আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার দিকনির্দেশনা দেন।

ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে সেবার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গাজীপুর নজিম উদ্দীন বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতীব ও ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা মুফতী মোজাহিদ আল ফাহিম।

অতিথিবৃন্দের এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থিত সকল স্বেচ্ছাসেবকদের আগামী দিনের পথচলায় গভীর অনুপ্রেরণা ও পাথেয় হয়ে থাকবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক এবং SASK-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা। সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই বৃহৎ আয়োজনটিকে সফল করতে শ্রদ্ধেয় ম্যাম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্যের দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, রাতজাগা প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "আপনাদের এই নিবেদনই আমাদের সংগঠনের মূল ভিত্তি।

"পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক ও সুনিপুণ সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের প্রথিতযশা আইনজীবী ও ক্বারী নূর মোহাম্মাদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এস এম عمران আজাদ। তাঁর চমৎকার ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা পুরো সম্মেলনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আগত প্রাণপ্রিয় সকল স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অফুরন্ত ভালোবাসা জ্ঞাপন করা হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দূরত্বের কষ্ট উপেক্ষা করে তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে দেশের তরুণ সমাজ এখনো মানবতার কল্যাণে কতটা নিবেদিত।

সম্মেলন শেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়। পরিশেষে, "চলুক সেবার এই মহৎ যাত্রা, ছড়িয়ে পড়ুক আলো টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া!"—এই দৃপ্ত অঙ্গীকার ও স্লোগানকে বুকে ধারণ করে সমাপনী ঘোষণার মাধ্যমে ৩য় জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...